জীবনেরে সঁপি দিলা
ত্যাগেরে করিয়া সার,
কর্ম হতে বিচ্যুতি,
ভাগ্য-চক্রে হলো হার।

প্রৌঢ়ত্বে পঙ্গু প্রায়,
পেশাহীনতার অভিশাপ,
গৃহিণীর বিত্ত-স্রোতে
চলে জীবনের উত্তাপ।

দাম্পত্যের দহন-কুঞ্জে
জমেছে তো বহ্নিশিখা,
কলহ-সংঘাত চলে,
আত্মমর্যাদা যায় লিখা।

------------------------

অদৃষ্টের দুর্ভেদ্য বাঁধন
টানে তারে পশ্চাতে,
দিশাহারা পৌরুষ,
কি করিবে এই প্রাতে?

বিলুপ্ত প্রভা ফেরাবে,
করিবে না কভু হীনমন্যতা,
জীবনের এই রঙ্গমঞ্চে
আর নয়তো নীরবতা।

অন্ধকার ভেদ করি
চাহে সে জ্যোতির্ময় পথে,
সম্মান পুনরুদ্ধার করিবে
সে নিজ মনো-রথে।

ক্লিন্নতার গ্লানি আজি
ঝেড়ে ফেলিবে সে নিশ্চয়,
দৃঢ়তার বর্মে বাঁধিয়া
করিবে জীবন-জয়।

স্ব-শক্তিতে বলীয়ান,
ফিরিবে সে মহিমায়,
আশু অভিসার হবে,
না রহিবে সংশয়।

অদৃষ্টের রুদ্ধ দ্বার
খুলি দিবে সে নিজ হাতে,
নিয়তির প্রতিকূলে
লড়িবে সে প্রভাতে।

হারানো গৌরব ফিরাবে,
মিটিবে সকল দেনা,
পুরুষের আত্মা জেগে রবে,
সে তো দুর্বল রবে না।

তীব্র দহনে পোড়ে,
তবু আশা বাঁচে হৃদয়ে,
অন্ধকার রাত্রি শেষে
দেখবে নতুন উদয়ে।

দিনের আলোতে খুঁজবে
তার কাজের ঠিকানা,
দুঃখের ভার লাঘব হবে,
পাবে শান্তির নিশানা।

-------------------------

--মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম

One thought on “জীবন রসায়ন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *