——- মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
(২১/১২/২০২৫) বাখরনগর
আকাশ গুমরে কাঁদছে আজ,
বাতাস ভারী শোকে,
ওসমান হাদীর রক্ত মাখা—
জল জমেছে চোখে।
কোটি প্রাণ ডুকরে কাঁদে,
আর্তনাদ সব ঘরে,
বিপ্লবীদের রক্ত কেন—
রাজপথে আজ ঝরে?
কোরানের পাখির সেই যে বাণী,
মধুর সুরের টান,
আজো কাঁদায় মুমিন হৃদয়,
আজো ব্যাকুল প্রাণ।
নিজামী কিংবা কামরুজ্জামান,
মুজাহিদের ঐ স্মৃতি,
শহীদী মরণ বরণ করে—
গড়লো অমর গীতি।
সাতচল্লিশ থেকে পঁচিশ—
দীর্ঘ ত্যাগের পথ,
যাঁরা থামায়নি কোনোদিনও—
বিপ্লবের এই রথ।
রক্তে কেনা লাল-সবুজে,
সেই শহীদদেরই ঘ্রাণ,
তোমাদের এই ঋণ শোধিতে—
দিতে পারি এই জান।
খুনিরা তোমায় মারেনি হাদী,
গড়েছে অমর নাম,
মরেও তুমি বেঁচে আছো আজ—
ললাটে শহীদী জাম।
বাংলার মাটি সাক্ষী থাকলো,
সাক্ষী থাকলো কাল,
তোমাদের ত্যাগে উজ্জ্বল হবে—
আগামী চিরকাল।
তোমাদের আমি ভালোবাসি খুব,
ভালোবাসি এই দেশ,
বিপ্লবীদের রক্তে মুছবে—
অন্যায়ের সব রেশ।
চোখের জল কি থামবে না আজ?
দুআ করি সকাতরে,
আল্লাহ যেন ঠাঁই দেন ফের—
জান্নাতুল ফেরদৌস তরে।
বাংলার মাটি দুহাত বাড়িয়ে
আগলে রেখেছে লাশ,
শহীদ রক্তে ভিজেছে জমিন,
কেঁপেছে নীল আকাশ।
যারা দিয়ে গেছে বুকের রক্ত,
দিয়ে গেছে নিজ প্রাণ,
তাদের ত্যাগের মহিমা আজো—
গায় যে গোরস্থান।
দেশপ্রেম আর ঈমানের টানে
যারা হলো আগুয়ান,
জেল-জুলুম আর ফাঁসির মঞ্চে
গেয়ে গেছে জয়গান।
পাগল করা সে ভালোবাসা তাঁদের,
দেশের জন্য মায়া,
কবর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে আছে—
তাঁদের পুণ্য ছায়া।
৪৭-এর সেই যে লড়াই,
৫২-র সেই দাবি,
৭১-এর মুক্তি পাগল—
রক্তের সেই চাবি।
২৪ থেকে ২৫-এর পথে
যারা হলো নি:শেষ,
তাদের স্মৃতিতে গর্বিত আজ—
আমার বাংলাদেশ।
ওসমান হাদীর শান্ত শরীর,
সাঈদী-নিজামীর মুখ,
তোমাদের কথা মনে পড়লেই—
ফেটে যায় আজ বুক।
হে বিপ্লবী, হে মহা বীর!
তোমরা তো হারোনি,
তোমাদের মতো দেশটাকে তো—
কেউ ভালোবাসেনি।
মরেও তোমরা অমর হয়েছ—
আছো জনতার ভিড়ে,
বিপ্লবীদের রক্ত কথা—
বলবেই ফিরে ফিরে।
চোখের নোনা জল মুছে নিয়ে,
শপথ নিলাম আজ,
রইবে অম্লান তোমাদের ঐ—
মহান বীরের সাজ।
