ইতিহাস একবার নয়—বারবার প্রমাণ করেছে, আমেরিকা-সমর্থিত কোনো দেশ, দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি কখনোই ইসলামের জন্য কল্যাণকর হয়নি। আজ যারা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে “জনগণের আন্দোলন” বলে সাজাতে চাইছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে আছে—অথবা তারা মোনাফেক।

আজ আমেরিকা প্রকাশ্যেই ইরানে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—খামেনির পতন। কিন্তু তারা বুঝতে চাইছে না, এটি কোনো এক ব্যক্তির পতন নয়; এটি একটি রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র। খামেনির পতনের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের পতন ঘটবে—ঠিক যেমন ঘটেছিল সাদ্দাম হোসেনের পর ইরাকে, গাদ্দাফির পর লিবিয়ায়।

এই মোনাফেক জনগণ ভুলে গেছে ইতিহাস। ভুলে গেছে সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ইয়াসির আরাফাতের মতো নেতাদের ত্যাগ। তারা ভুলে গেছে কীভাবে “স্বাধীনতা”র নামে দেশগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।

লিবিয়া আজ রাষ্ট্রহীন। সিরিয়া রক্তাক্ত। ইয়েমেন মানবিক কবরস্থান। লেবানন অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। ফিলিস্তিন দিনের পর দিন গণহত্যার শিকার। এসবের পেছনে কারা? আমেরিকা ও ইসরাইল। তবুও আজ সেই খুনিরাই মানবতার মুখোশ পরে হাজির।

যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তারাই নাকি আজ ইরানের জনগণের পক্ষে কথা বলছে—এত বড় ভণ্ডামি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

সত্য হলো, ইরানের সামরিক সক্ষমতায় ভয় পেয়েই এই ষড়যন্ত্র। ইরান মাথা নত করেনি, তাই তাকে ভাঙতে হবে। কারণ যেখানে অন্য সব নামধারী মুসলিম দেশ আমেরিকার পা চেটেছে, সেখানে একমাত্র ইরানই দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে। একমাত্র ইরানই মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছে।

আর এখানেই আসল যন্ত্রণা—কিছু মুসলমান নিজেরাই এই ষড়যন্ত্রের দালাল হয়ে গেছে। নামাজ-রোজা না করা এক বিষয়—এটা আল্লাহর হক। আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করবেন। কিন্তু মোনাফেকি করে পুরো মুসলিম জাতির ক্ষতি করা কোনো ব্যক্তিগত গুনাহ নয়; এটা জাতিগত বিশ্বাসঘাতকতা।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, যেন বিশ্ব অন্য অপরাধ ভুলে যায়। একই কৌশল আজ ইরানের ক্ষেত্রেও। স্ক্রিপ্ট পুরোনো, শুধু মঞ্চ বদলেছে।

কিন্তু একটি সত্য বদলায় না—যতই বিদ্রোহের নাটক করা হোক, যতই হত্যা চালানো হোক, ইসলামের বিজয় অনিবার্য। ইতিহাস সাক্ষী, জুলুম টেকে না।

যারা মনে করছে পালানোর পথ থাকবে—ভুল করছে। যখন আল্লাহ খোরাসান থেকে সেই কাফেলার প্রকাশ ঘটাবেন, তখন পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না।

এই লড়াই ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের নয়।
এই লড়াই সত্য ও ষড়যন্ত্রের।
এই লড়াই ইসলাম বনাম আধিপত্যের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *