এপ্রিল —
পৃথিবী বদলানোর মাস
বসন্তের এই মাসে যুদ্ধ শেষ হয়েছে, বিপ্লব জেগেছে, সাম্রাজ্য ভেঙেছে এবং নতুন যুগের উষালগ্ন রচিত হয়েছে। এপ্রিলের ইতিহাস শুধু তারিখের সংকলন নয় — এ হলো মানবজাতির সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির এক মহাকাব্যিক আখ্যান।
এপ্রিল মাস আসে বসন্তের হাত ধরে। ইউরোপের বনভূমিতে নতুন পাতা গজায়, এশিয়ার মাঠে ধানের চারা দোল খায়। কিন্তু প্রকৃতির এই নবজীবনের পাশাপাশি এপ্রিল বহন করে আসে এক ভারী বোঝা — ইতিহাসের অসংখ্য সন্ধিক্ষণের স্মৃতি। এই মাসে যা ঘটেছে তা কেবল কোনো একটি দেশের বা জাতির ইতিহাস নয়; এ হলো সমগ্র মানবসভ্যতার গতিপথ পরিবর্তনের মাস।
রোমান সাম্রাজ্যের পতন থেকে মার্কিন গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি, টাইটানিকের ডুবে যাওয়া থেকে চেরনোবিলের বিস্ফোরণ — এপ্রিলের পাতায় পাতায় লেখা আছে মানুষের অহংকার ও অসহায়ত্বের কথা। আবার এই মাসেই লেখা হয়েছে সাহসের গাথা — বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ দিনগুলো, ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন, আফ্রিকার জাগরণ।
গ্যালিপলির রক্তাক্ত ভোর
২৫ এপ্রিল, ১৯১৫প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে মর্মান্তিক এবং সাহসী অভিযানগুলোর একটি শুরু হয়েছিল এপ্রিলের এই দিনে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সৈন্যরা — যারা আনজাক নামে পরিচিত — অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গ্যালিপলির সৈকতে অবতরণ করেছিল।
তুর্কি সৈন্যদের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে অস্ট্রেলিয়ানরা যে সাহসিকতা দেখিয়েছিল, তা একটি জাতির জন্মকাহিনীতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল আনজাক দিবস হিসেবে পালিত হয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে — এক রক্তক্ষয়ী পরাজয়ের স্মৃতি যা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
“তারা পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু তারা ভুলিত হয়নি”
— গ্যালিপলির উপর অস্ট্রেলিয়ান ইতিহাসবিদ
৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিকাল। বার্লিনের ফুহেরার বাংকারে অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করেন। সোভিয়েত বাহিনী রাইখস্ট্যাগ ভবনের চূড়ায় লাল পতাকা উত্তোলন করে। ছয় বছরের নরকযন্ত্রণার অবসান হয়।
এপ্রিল, ১৯৪৫-এ মিত্রবাহিনী নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পগুলো মুক্ত করতে শুরু করে। বুখেনওয়ালড, বার্গেন-বেলসেন — এসব নামের সামনে মানবতা স্তব্ধ হয়ে যায়।
এপ্রিলের আগুন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
এপ্রিল, ১৯৭১২৫ মার্চের কালরাত্রির পর এপ্রিল এল এক অগ্নিগর্ভ সংকল্প নিয়ে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠিত রূপ নিতে শুরু করেছিল এই মাসেই।
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ — মুজিবনগর সরকার গঠিত হলো। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় — যা পরে মুজিবনগর নামে পরিচিত হয় — এই সরকার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করল।
এই এপ্রিলে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধারা ছড়িয়ে পড়লেন। সীমান্তের ওপারে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেন হাজার হাজার তরুণ। একটি জাতির মৃত্যু না হয়ে জন্ম হলো।
“এই মাটিতে রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না”
— মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিজ্ঞা, এপ্রিল ১৯৭১
ভারতে শরণার্থী ঢল, বুদ্ধিজীবীদের নিধন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বলে ওঠা — এপ্রিলের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য শুধু বেদনার নয়, অদম্য প্রতিরোধেরও।
লিংকনের মৃত্যু ও একটি জাতির শোক
১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় এপ্রিলগুলোর একটি ছিল ১৮৬৫ সাল। ৯ এপ্রিল জেনারেল লি আত্মসমর্পণ করায় চার বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হলো। মাত্র ছয় দিন পর, ১৫ এপ্রিল, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারালেন।
ফোর্ড থিয়েটারে জন উইলকস বুথের সেই গুলি শুধু একজন মানুষকে হত্যা করেনি — হত্যা করেছিল মিলনের স্বপ্নকে। যে মানুষটি দেশকে এক রাখলেন, তিনিই বিজয়ের উষালগ্নে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।
এপ্রিলের আরেক মার্কিন ইতিহাস: ১৮ এপ্রিল, ১৯০৬ — সান ফ্রান্সিসকোর ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার এই ভূকম্পন এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে শহরটির তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়, ৮০ শতাংশ শহর ধ্বংস হয়।
⬥ এপ্রিলের কালক্রম ⬥
চেরনোবিল: আণবিক অহংকারের মূল্য
২৬ এপ্রিল, ১৯৮৬সেদিন রাত ১টা ২৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরিত হলো। সেই মুহূর্তে শুরু হলো মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনা।
হিরোশিমার চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ল বায়ুমণ্ডলে। প্রায় ৩,৫০,০০০ মানুষকে উচ্ছেদ করতে হলো। প্রিপিয়াত শহর আজও ভূতুড়ে — সোভিয়েত যুগের ফ্ল্যাটে এখনও পড়ে আছে শিশুদের খেলনা, ক্লাসরুমে ছড়িয়ে গ্যাসমাস্ক।
চেরনোবিল কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়। এটি সোভিয়েত ব্যবস্থার পতনেরও অন্যতম কারণ। মিখাইল গর্বাচেভ স্বীকার করেছিলেন যে চেরনোবিল ছিল সোভিয়েত সাম্রাজ্যের আসল মৃত্যুর শুরু।
“চেরনোবিল হয়তো স্নায়ুযুদ্ধ শেষ করার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, রিগ্যানের চেয়েও বেশি”
— মিখাইল গর্বাচেভ
টাইটানিক: অহংকারের সমাধি (১৫ এপ্রিল, ১৯১২)
“ঈশ্বরও ডোবাতে পারবেন না” — এমন দাবি করা জাহাজটি উত্তর আটলান্টিকের বরফ-শীতল জলে ডুবে গেল মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে। ১,৫০০-এর বেশি মানুষ মারা গেল। যারা বাঁচল, তারা বহন করল এমন একটি ক্ষত যা কোনোদিন শুকায়নি।
টাইটানিকের ডুবে যাওয়া শুধু একটি জাহাজডুবি নয় — এটি শিল্পযুগের অহংকার ও শ্রেণিবৈষম্যের এক নিষ্ঠুর আয়না। প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের বেঁচে থাকার হার ছিল তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
হাবল: মহাবিশ্বের নতুন দৃষ্টি
২৪ এপ্রিল, ১৯৯০নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে স্থাপিত হলো এপ্রিলে। মানবজাতি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে থেকে মহাবিশ্বের গভীরে তাকাতে পারল।
হাবল আমাদের দেখিয়েছে ১৩.৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ, সৃষ্টির পরমুহূর্তের আলো। মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর — এই তথ্যের নিশ্চিতকরণে হাবলের অবদান অপরিসীম।
পৃথিবী দিবসের জন্ম
২২ এপ্রিল, ১৯৭০সিনেটর গেলর্ড নেলসনের উদ্যোগে ২ কোটি আমেরিকান রাস্তায় নেমেছিল পরিবেশ রক্ষার দাবিতে। জন্ম হলো পৃথিবী দিবসের। আজ ১৯৩টি দেশে পালিত এই দিনটি পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
- ২ এপ্রিলহান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন (১৮০৫)
- ৬ এপ্রিলরাফায়েল সান্তি, রেনেসাঁর চিত্রশিল্পী
- ১৫ এপ্রিললিওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৪৫২)
- ২৩ এপ্রিলউইলিয়াম শেক্সপিয়র (আনু. ১৫৬৪)
- ২৬ এপ্রিলমার্কাস অরেলিয়াস, দার্শনিক সম্রাট
- ১২ এপ্রিলফ্রাংকলিন রুজভেল্ট, ১৯৪৫
- ১৫ এপ্রিলআব্রাহাম লিংকন, ১৮৬৫
- ২৩ এপ্রিলউইলিয়াম শেক্সপিয়র, ১৬১৬
- ৩০ এপ্রিলঅ্যাডলফ হিটলার, ১৯৪৫
ইয়েমেনের বসন্ত ও আরব জাগরণ
এপ্রিল, ২০১১২০১১ সালের এপ্রিলে সিরিয়া থেকে লিবিয়া — আরব বিশ্ব জুড়ে পরিবর্তনের তরঙ্গ উঠছিল। আরব বসন্তের মৌসুমে এপ্রিল এনেছিল সিরিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের সূচনা, যা পরে পরিণত হয় এক দশকের বেশি স্থায়ী ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে।
এই এপ্রিলগুলো দেখিয়ে দিল — জনগণ যখন জাগে, সাম্রাজ্যও কাঁপে। কিন্তু একই সাথে দেখাল, বিপ্লবের পরে সুশাসনের রাস্তা কতটা কণ্টকাকীর্ণ।
জালিয়ানওয়ালাবাগ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কলঙ্ক
১৩ এপ্রিল, ১৯১৯বৈশাখীর উৎসবে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে জমায়েত হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে ব্রিটিশ সৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালাল। সরকারি হিসেবে ৩৭৯ জন, ভারতীয় সূত্রে এক হাজারেরও বেশি মৃত্যু।
এই হত্যাকাণ্ড ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিবাদে ব্রিটিশ প্রদত্ত নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করলেন। ভারতের হৃদয় জ্বলে উঠল।
বে অব পিগস: সিআইএর ব্যর্থ অভিযান
১৭ এপ্রিল, ১৯৬১কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর সরকার উৎখাত করতে সিআইএ প্রশিক্ষিত কিউবান নির্বাসিত সৈন্যরা বে অব পিগসে অবতরণ করল। কিন্তু অভিযান চরমভাবে ব্যর্থ হলো।
এই ব্যর্থতা প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে বিব্রত করল। কিন্তু একই সাথে কাস্ত্রোকে জাতীয় বীরে পরিণত করল এবং কিউবান বিপ্লবকে আরও শক্ত ভিত দিল। স্নায়ুযুদ্ধের ইতিহাসে এটি একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত।
এপ্রিলের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার একটি সত্য মনে করিয়ে দেয় — ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ঘটনার প্রতিধ্বনি চিরকালীন।
শেক্সপিয়রের জন্ম ও মৃত্যু: একই তারিখে
উইলিয়াম শেক্সপিয়র জন্মেছিলেন আনুমানিক ২৩ এপ্রিল, ১৫৬৪ — এবং মারা গেছেন ঠিক ২৩ এপ্রিল, ১৬১৬-তে। ইংরেজি ভাষার এই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের জীবন যেন বৃত্তাকার — জন্ম ও মৃত্যু একই দিনে একই মাসে।
এই কারণেই ২৩ এপ্রিল ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস’ হিসেবে নির্ধারিত।
এপ্রিলে বিশ্বের সেরা ম্যারাথন
বোস্টন ম্যারাথন — বিশ্বের প্রাচীনতম বার্ষিক ম্যারাথন — প্রতি বছর এপ্রিলের তৃতীয় সোমবারে অনুষ্ঠিত হয় ১৮৯৭ সাল থেকে। প্যাট্রিয়টস ডে-র উৎসবে এই দৌড় আমেরিকার ঐতিহ্যের অংশ।
২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলা — তিনজন নিহত, কিন্তু পরের বছর লক্ষাধিক মানুষ ‘বোস্টন স্ট্রং’ স্লোগানে ফিরে আসে।
এপ্রিলের সুর: কিছু বিখ্যাত বিদায়
১৯৯৪ সালের ৫ এপ্রিল — কার্ট কোবেইনের মৃত্যু। নব্বই দশকের গ্রাঞ্জ মিউজিকের প্রতীক, নিরভানার কণ্ঠস্বর, ২৭ বছর বয়সে চলে গেলেন।
২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল — প্রিন্সের মৃত্যু। পপ সংগীতের এক অনন্য প্রতিভা নিঃশব্দে বিদায় নিলেন। এপ্রিল যেন শিল্পীদের অন্তিম মাসও।
এপ্রিল আসে, ইতিহাস কথা বলে
প্রতিটি এপ্রিলে পৃথিবী একটু থামে। বসন্তের ফুল ফোটে, কিন্তু কোথাও কোথাও কেউ স্মরণ করে হারানো মানুষদের। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বুকে হাত দেয়। চেরনোবিলের কাছের গ্রামে বৃদ্ধ নারী মোমবাতি জ্বালায়। অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগের মাটিতে কেউ শুকনো ফুল রাখে।
ইতিহাস কখনো মরে না। সে বদলায়, রূপান্তরিত হয়, কখনো ভুলে যাওয়া হয় — কিন্তু তারপরও ফিরে আসে। এপ্রিলের ঘটনাগুলো আমাদের শিখিয়েছে: মানুষ যখন তার সেরাটা দেয়, সে অসাধ্য সাধন করতে পারে। আর যখন সে তার নিকৃষ্টতম পথে হাঁটে, তখন ভয়াবহতার কোনো সীমা থাকে না।
বাংলাদেশের এপ্রিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১-এর এই মাসে এই ভূখণ্ডের মানুষ প্রমাণ করেছিল — অস্ত্রের চেয়ে আত্মার শক্তি বড়। মুজিবনগর সরকার যখন শপথ নিল, তখন বিশ্ব জানল — এই জাতি বাঁচতে চায়, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়।
সেই এপ্রিলের উত্তরাধিকার আমরা বহন করি। প্রতিটি ১৭ এপ্রিল মনে করিয়ে দেয় — স্বাধীনতা ভিক্ষায় আসে না, তা অর্জন করতে হয়। রক্ত দিয়ে, সংগ্রাম দিয়ে, অবিচল সংকল্প দিয়ে।